পেশাদারিত্বের ছোঁয়া ছিল না কখনই। দশ বছর পরও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শূন্য কাঠামোয় দাঁড়িয়ে। পরিচর্যা ছাড়াই ফল পেতে চায় বিসিবি। এবার করোনা পরিস্থিতি আরও কঠিন সময়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে আগেই। পরে দর্শক ছাড়া খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

অধিকাংশ দেশে খেলা থাকায় এবং পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) একই সময়ে শুরু হতে যাওয়ায় বিদেশি তারকা ক্রিকেটারের সংখ্যাও এবার কম। বিপিএল শুরুর আগেই ক্রিকেটাররা করোনায় আক্রান্ত। ডিআরএস নেই। ভালো বিদেশি আম্পায়ারও পায়নি বিসিবি। এত কিছুর পরও ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিপিএল।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ দিয়ে আজ বসছে বিপিএলের অষ্টম আসর। বেলা দেড়টায় প্রথম ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রতিপক্ষ সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর যথাক্রমে খুলনা টাইগার্স ও মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা।

করোনার হুমকির মুখেও মিরপুর একাডেমি মাঠে গাদাগাদি করে অনুশীলন সারতে হচ্ছে টুর্নামেন্টের ছয় দলকে। অধিকাংশের টিকা থাকার কারণে বিষয়টি হালকাভাবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

তিনটি ভেন্যু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ম্যাচগুলো হবে। মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। টি ২০ মানের উইকেট কমই পাওয়া যায় মিরপুরে। রান কম হওয়ায় টি ২০ ম্যাচের উত্তেজনাও কম থাকে।

এবারও বড় স্কোরের আশা করা কঠিন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেরদিন মিরপুরে বেশ আমেজি ভাব তৈরি হলো। ক্রিকেটার, আয়োজক, সাংবাদিক, উৎসুক দর্শক মিলে কিছুটা আমেজের আবহ ছিল।

চট্টগ্রামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বরিশাল অধিনায়ক সাকিবের ধারণা, সব দলই প্রায় একই অবস্থানে। কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কে এগিয়ে, বলা মুশকিল। বাকি পাঁচ দলের সঙ্গে একই রকম মনে হচ্ছে আমাদের। প্রথম ২/১টা ম্যাচ গেলে হয়তো কাটাছেঁড়া করা যাবে। এখন মনে হচ্ছে সব দলই ভারসাম্যপূর্ণ। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হলে আসলটা বেরিয়ে আসবে।’ চট্টগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তিনি বলেন, ‘টি ২০ কৌশলের খেলা। এখানে ছোট-বড় বলে কেউ নেই। যারা ভালো করবে তারাই জিতবে।’

খুলনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথমদিনেই ভায়রা ভাইয়ের মুখোমুখি হবেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘অন্তত ১০টি ম্যাচ তো খেলার সুযোগ পাব। চেষ্টা করব যাতে ১২-১৩টা ম্যাচ খেলা যায়।

যতবার সম্ভব যেন ব্যাট উপরে ওঠানো যায়। চেষ্টা করব সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে চাই। যাতে দল ভালো করে। ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দলীয় লক্ষ্য যেন অর্জন করতে পারি।’ মাহমুদউল্লাহ প্রথম ম্যাচে মাশরাফিকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ। তিনিও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চান।

মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘অধিনায়কের দায়িত্ব আমাকে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের দলটা তারকাবহুল। খ্যাতি বেশি থাকলে তা প্রমাণেরও বিষয় থাকে। এগুলো চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিচ্ছি। আমাদের ভালো করার সামর্থ্য আছে।’

বিবিএস ক্যাবলস বঙ্গবন্ধু বিপিএলের টাইটেল স্পন্সর। পাওয়ার্ড বাই ওয়ালটন। দলগুলোর অনুশীলন শেষে সন্ধ্যায় এক হোটেলে ছয় অধিনায়কের উপস্থিতিতে হয়েছে ট্রফি উন্মোচন।

এবার বিপিএলে করোনার হুমকি দলগুলোকে বেশি ভয়ে রেখেছে। করোনা হলে প্রায় দশদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। তবে প্রথম করোনা পজিটিভ হওয়ার দশদিন পর পরীক্ষা ছাড়া খেলতে পারবেন ওই ক্রিকেটার। ওই সময়ে করোনা পজিটিভ থাকলেও সমস্যা নেই। তবে বড় তারকারা করোনা আক্রান্ত হলে টুর্নামেন্ট জৌলুস হারাতে পারে।

 কলমকথা/রোজ